আস্রারে ছামা বা গানের রহস্য
এর মধ্যে নূরুন্ নাহার বেগম, মেহেরুন নেছা, শাহ্ সাহেব, কাজী জহিরুল হক এবং রফিকুল হক ওফাত লাভ করেছেন ।
কোরানুল করিমে বলা হয়েছে “ওয়ালিল্লাহে ইজ্জাতো ওয়ালি রাছুলিহি ওয়া লিল মুমিনীনা ওয়াল কিন্নাল মুনাফেকুনা লা ইয়ালামু” অর্থাৎ এবং নিশ্চয়ই সম্মান একমাত্র আল্লাহর, তাঁর রাছুলের এবং মুমিনগণের কিন্তু মুনাফিকগণ তা বুঝে না (সুরা মুনাফিকুন-০৮ আয়াত)। আল্লাহর ওলিদেরকে চিনতে পারা এবং তাদেরকে সম্মান প্রদর্শন করা হলো আল্লাহর এক বিশেষ রহমত বা দয়া। আল্লাহর দয়া না হলে ওলি- আউলিয়া বা পীর-মুর্শিদকে চিনা যায় না বা তাদের প্রতি আদব-ভক্তি প্রদর্শন করা যায় না। যাদের মুর্শিদ নেই তারাই আল্লাহর রহমত হতে বঞ্চিত এবং ইসলাম ধর্মের সাথে তাদের কোনোই সম্পর্ক নেই। এ ভেদ-রহস্য মুনাফিকগণ মোটেও বুঝেনি, বুঝতে চায় না এবং অন্যকেও বুঝতে দেয় না; যুগে যুগে তাই হয়েছে। আমার ক্ষুদ্রজ্ঞানে এ মহান সাধকের প্রশংসা করার মতো দুঃসাহস দেখাতে চাইনে। তবে এতোটুকু না বললেই নয় যে, কাজী বেনজীর হক চিশ্তী নিজামী কুদ্দিছা ছিররুহ আজিজ বর্তমান যুগের আধ্যাত্মিক সুফি সাধকদের শিরোমণি, একজন কামেল মোকাম্মেল মহান সাধক, গবেষক, চিন্তাবিদ, সত্যেদ্ধারে সার্থক লেখক এবং একজন সুবক্তা। মুয়াবিয়া-ইয়াজিদের সময় হতে মুসলিম সমাজ গোঁড়াপন্থী মোল্লাতন্ত্রের দীক্ষায় দীক্ষিত হয়ে দ্বীন-এ- মুহাম্মদীকে, তার ইতিহাসকে ভুলে গিয়ে অন্ধ অনুমান কল্পনার পিছনে লেজ তুলে দৌড়াচ্ছে। ধর্মের মূলনীতিতে যারা অন্ধ অনুমানে, কাল্পনিক ভাবে বিশ্বাসী তারই হলো ধিকৃত মৌলবাদ, এরাই জঙ্গিবাদ-নীতি সৃষ্টি করেছে ধর্মের নামে- যা মানবজাতির জন্য চরম অভিশাপস্বরূপ । প্রত্যেক ধর্মেই ধর্মের ছদ্মাবরণে এসমস্ত অন্ধ-গোঁড়া মৌলবাদীগণ বাস করে চলেছে। ধর্মের নামে, ধর্মের দোহাই দিয়ে এরাই সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে যাচ্ছে। রাছুলপাক সাল্লাল্লাহু তা'য়ালা আলায়হি ওয়াচ্ছাল্লামের ওফাত লাভের চারদিন পূর্ব হতেই এ দলের সূত্রপাতের আভাষ দেখা দিয়েছিল। পরবর্তীতে এ ধারায় আত্মপ্রকাশ করে মুয়াবিয়া, ইয়াজিদ, ইবনে তাইমিয়া, ইবনে হাদ, ইবনে রজব, আবদুল ওহাব নজদী, তার পুত্র মোহাম্মদ ইবনে আবদুল ওহাব নজদী, তার ভগ্নিপতি সরদার সউদ প্রমুখ। তাদের এ ধরনের মতবাদের কেন্দ্রস্থল হলো আরবের নজদে (বর্তমানে নাম রিয়াদ) এবং ভারতের ‘দেওবন্দ' মাদ্রাসা। বাংলার মুসলমানগণ পীর-আউলিয়াদের প্রতি খুবই শ্রদ্ধাশীল দেখে ওহাবী মৌলবীগণও পীর সেজে তরিকার বিভিন্ন ক্রিয়া-কর্ম যেমন, মাজার করা, মাজার জিয়ারত করা, মাজারে ফুল দেয়া, বাতি জ্বালানো, ওরশ মোবারক, পবিত্র গান-বাজনা, মিলাদ কেয়াম, তবারক বিতরণ, তাজিম সেজদা ইত্যাদি বেদআত, নাজায়েজ বা হারাম বলে প্রচার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে চলেছে এবং তাদের মুরুব্বী সউদী ওহাবীদের মনতুষ্টি করছে। এ ধরনের মৌলবী বা পীর সাহেবগণ হলো ওহাবীদের গুপ্তচর। তাদের টুপি, জুব্বা, পাগড়ী আর আরবী ভাষা শিক্ষা
প্রবাদ বাক্যে একটি কথা আছে- "যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা”। এক শ্রেণির মৌলবীগণ ঠিক তেমনি মনোভাব নিয়ে আধা-জল খেয়ে লেগে আছে ইসলাম ধর্মের প্রাণ আধ্যাত্মিকতা, তার ক্রিয়া-কর্ম এবং ধর্মীয় সঙ্গীত বা গান-বাজনার বিরুদ্ধে, ওলি-আউলিয়াদের আরো কিছু ক্রিয়া-কর্মের বিরুদ্ধে। অবশ্য তারা সযত্নেই তাদের এ মানসিকতার ধারাবাহিকতা তাদের গুরু মুয়াবিয়া, ইয়াজিদ (উমাইয়া-আব্বাসিয়া রাজবংশ), ইবনে তাইমিয়া, ইবনে রজব, ইবনে হাদ, সরদার সউদ, আবদুল ওহাব নজদী, তার পুত্র মোহাম্মদ ইবনে আবদুল ওহাব নজদী, দেওবন্দের মৌলবী আশরাফ আলী থানবী, মৌলবী আবদুর রশিদ গাঙ্গুহী এ সমস্ত কট্টোর ওহাবীদের বিকৃত মনোভাবগুলি রক্ষা করে চলেছে। যদিও তা পরবর্তীতে শতধা শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়েছে। দেওবন্দীদের আরো একটি শাখা যার ভিত্তি হলো বেশী বেশী ঘুমানো। এ নির্বোধগণ মৌলবী ইলিয়াছের স্বপ্নকে আমাদের মহানবী সাল্লাল্লাহু তা'য়ালা আলায়হি ওয়াছাল্লামের নবুয়ত এবং ওহীর বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে ছয় উছুলী (তাদের কারো কারো ভাষায় সিক্স পয়েন্টস্) তাবলিগের জন্ম দিয়েছে। আর এ স্বপ্নের ছয়-উছুলী তাবলিগকে আমাদের মহানবী সাল্লাল্লাহু তা'য়ালা আলায়হি ওয়াছাল্লামের তাবলিগ বলে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরে, মানুষকে পথভ্রষ্ট করে চলেছে। ইসলামের সাইনবোর্ড নিয়ে এধরনের মারাত্মক ভাইরাসের আত্মপ্রকাশ আজ হতে প্রায় ৯০ বৎসর পূর্বে হয়েছে। এসমস্ত ওহাবী-গোলাবী ওহাবী মৌলবীগণ পবিত্র ধর্মীয় সঙ্গীত বা ছামা বা গান-বাজনাকে নাজায়েজ বা হারাম প্রমাণ করার জন্য এক প্রকার হাদিস জনসমুক্ষে তুলে ধরে মহা-আত্মতৃপ্তির নিঃশ্বাস ফেলতে থাকে। অথচ যে সমস্ত হাদিস দ্বারা তথাকথিত তিনকুড়ি তের ডিগ্রিওয়ালা আরবী ভাষার পন্ডিতগণ তথা একদল মোল্লা-মৌলবীগণ ধর্মীয় গান-বাজনাকে নাজায়েজ বা হারাম বলে সাব্যস্ত করে, ঐ সমস্ত তথাকথিত হাদিসগুলোর কোনো পিতৃ-পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে না- এ কথাটি তথাকথিত পন্ডিতগণ ভাববার মোটেও সময় পাচ্ছে না। হাদিস বিজ্ঞানী বা মুহাদ্দেসগণ বা ফকিহগণের দৃষ্টিতে গান-বাজনার বিরুদ্ধে প্রয়োগকৃত হাদিসগুলো সমালোচনার আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে শত তালির পোশাক পড়ে জোকার সেজে করুণ অবস্থায় রয়েছে। আর ঐ সমস্ত বানোয়াট হাদিস দ্বারা ওহাবী জোকার মৌলবীগণ ধর্মীয় গান-বাজনাকে নাজায়েজ বা হারাম ফতোয়া দিয়ে সরলপ্রাণ মানুষকে ধোঁকা দিয়ে বোকা বানিয়ে দিচ্ছে এবং তাদের ঈমানকে রাছুলপাক সাল্লাল্লাহু তা'য়ালা আলায়হি ওয়াছাল্লামের তরিকা হতে দূরে ঠেলে দিচ্ছে এবং ওহাবীদের বিকৃত মতবাদ গ্রহণ
