অনুবাদকের কথা
ঐতিহাসিক মসনবীয়ে রূমী ফারসী ভাষার এ অমর আধ্যাত্মিক দর্শন কাব্য। এটি বাংলা ভাষায় মুসলিম সমাজের খেদমতে উপস্থাপন করার তীব্র আকাঙ্খা দীর্ঘদিন যাবত আমার হৃদয়ে জাগরিত হচ্ছিল। কিন্তু নিজের স্বল্প জ্ঞানের পরিধি ও অযোগ্যতার কথা বিবেচনা করে তা বাস্তবায়নে ব্রতী হতে সাহস পাইনি। এতদ্ব্যতীত যে সকল মনীষীগণকে আল্লাহ তা'আলা মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের সংরক্ষণকারীরূপে নিয়োজিত করে রেখেছেন, তাঁদের সমপর্যায়ে স্থান নেয়া এ অধমের জন্য ধৃষ্টতা বৈ আর কিছু নয়। তারপরেও মহান আল্লাহর উপর সম্পূর্ণ ভরসা ও আত্মবিশ্বাস এই রেখে যে, কেননা ছুফীকুল শিরোমণি, আলেমে হক্কানী, আরেফ বিল্লাহ, আল্লামা হযরত হাফেয জাফর আহমদ ওসমানী রহ.-এর নিকট দু'বার মসনবীর দরসে অংশগ্রহণ করার সুযোগ লাভে ধন্য হয়েছিলাম।
এখানে উল্লেখ্য যে, হযরত আল্লামা জাফর আহমদ ওসমানী রহ. স্বীয় দ্বীন দুনিয়ার দিশারী হাকীমুল উম্মত, মোজাদ্দিদে মিল্লাত, শায়খে তরীকত, পীরে কামেল হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রহ.-এর নিকট মসনবী শরীফ অধ্যয়ন করেছেন। আর হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রহ. এ গ্রন্থ অধ্যয়ন করেছেন তদীয় মুরশেদ তৎকালীন যুগশ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক রাহবার, সুলতানুল আউলিয়া, শায়খুল মাশায়েখ, আরেফ বিল্লাহ কুতবুল এরশাদ হযরত মাওলানা হাজী এমদাদুল্লাহ মোহাজেরে মক্কী রহ.-এর নিকট। হযরত হাজী এমদাদুল্লাহ মোহাজেরে মক্কী রহ. ছিলেন এলমে মসনবীর একচ্ছত্র অধিকারী - এলমে হাকীকত, তরিকত ও মারেফাতের মহাসমুদ্র। সুতরাং হযরত হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী রহ.-এর রূহানী ফয়েযের উৎস ছিলেন হযরত আল্লামা জাফর আহমদ ওসমানী রহ.। তাই আল্লাহ তা'আলার রহমত ও হযরত মাওলানা জাফর আহমদ ওসমানী রহ.-এর রূহানী তাওয়াজ্জোহ ও বাতেনী ফয়েযের বদৌলতে এই গুরুত্বপূর্ণ মহান কাজে ব্রতী হতে প্রয়াস পেলাম। আল্লামা জালালুদ্দীন রূমী রহ.-এর অমর কীর্তি মসনবী নামক মহাগ্রন্থকে ভাষান্তরিত তথা অনুবাদ ও ব্যাখ্যা করা এ নগণ্যের জন্য গগণচুম্বি দায়িত্ব। কেননা, এক ভাষাকে অন্য ভাষায় সহজ-সাবলীল অনুবাদ সহজ ব্যাপার নয়; তবে বান্দার কাজ শুধু চেষ্টা-সাধনা করা মাত্র।
আল্লামা জালালুদ্দীন রূমী রহ.-এর অমর কীর্তি মসনবীর অনুবাদের ক্ষেত্রে তাঁর যথাযথ ভাব ব্যক্ত করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। এ গ্রন্থ অনুবাদের ক্ষেত্রে বিখ্যাত বুজুর্গ হযরত মাওলানা নযীর আহমদ আরশী নকশবন্দী রহ.-এর ভাষ্য মেফতাহুল উলুম এবং ব্যাখ্যায় হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রহ. প্রণীত কণীদে মসনবীর সহযোগিতা গ্রহণ করেছি। এতে কোন প্রকার ভুল-ভ্রান্তি পরিলক্ষিত হলে তা হবে এই অধমের জ্ঞানের স্বল্পতার দরুণ ঐ মনীষীদের নয়।
অসীম দয়ালু ও পরম করুণাময় মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে আকুল আবেদন - তিনি যেন ধর্মপ্রাণ মুসলিম বান্দাগণকে এই অনূদিত গ্রন্থ থেকে দুনিয়া ও আখেরাতের ফায়েদা অর্জন করার সুযোগ দানে ধন্য করেন। | আমীন ।
-আবদুল মজীদ ঢাকুৰী
জামেয়া কোরআনিয়া লালবাগ, ঢাকা