ভণ্ড পীর ও পাগলা কুকুর হতে সাবধান
বদলিয়ে দিতে পারে। তবে মুবরাম তকদির কোনদিন, কোনকালেই বদলায় না। বদলানোর বিধান নাই। ৩ মানে অন্ধকার, রু মানে আলো। সুতরাং আলোর পথ যিনি দেখাতে পারেন তিনিই শুরু। তিনিই তো গুলিয়ে কামেল। সারাজীবন বাবা বাবা করে গেলে, অনেক কিছুই পীর বাবার হাতে তুলে দিলে, কিন্তু কিছুই তো পেলে না, শুধু বড় বড় কথাই শুনে গেলে। সবচাইতে বড় লোভনীয় বিষয় হলো ধন-সম্পদের প্রতি লোভ। যে পীর মুরীদের ধন- সম্পদের দিকে তাকায় সে তো মরদুদ। সেই তো পীর নামের জীবন্ত শয়তান। মুখ ফিরিয়ে নাও। মুখ ফিরিয়ে নেওয়াটাও তকদির, না নেওয়াটাও তকদির। আমি অধম ময়েজ উদ্দীন খোদাকে সাক্ষী করে চিৎকার করে ঘোষণা করছি যে, আমার জন্মদাতা শাহ সুফী সৈয়দ সুরুজ আলি মাস্তানের ওরসটি নেত্রকোনা জেলার সুসংদুর্গাপুর থানার, কাকৈর গড় ইউনিয়ন ও গ্রাম এর মাজার শরিফে একুশে ফেব্রুয়ারি এবং বাংলা মাসের কার্তিকের শেষ দিনে পালন করা হয়। হাজার হাজার ভক্তের সেখানে আগমন হয়। আমার দাদা শাহ সুফী সৈয়দ ছাবির উদ্দীন এর মাজার শরিফটিও সেখানেই আছে। আমি অধম পীর বংশের গদিনশীন হয়েও সত্যের সন্ধান পাওয়ার জন্য কয়েক বছর ঘোরাঘুরি করেছি। তারপর আমি আমার পীর বাবা জাহাঙ্গীরের কাছে মুরিদ হয়ে মাসের পর মাস ধ্যান-সাধনা করেছি ধ্যান-সাধনার স্কুলে। আমার পীর বাবা জাহাঙ্গীর আমাকে বলেছিলেন, এই সামান্য ধ্যান-সাধনায় অবশ্যই কিছু পাবে। যদি কিছু না পাও অন্য কোন পীর ধরবে। জেনে রেখ বাবা, তোমার পীরও তিন-তিনটি পীর ছেড়ে দিয়েছেন। এখানে পীর বড় নয়, বড় হলো সত্যসাগরে অবাগাহন করা। সাইনবোর্ড ফেলে দিয়ে একাগ্রমনে ধ্যান-সাধনা করার পর সত্যের আলো কিছুটা দেখতে পেলাম। বুঝতে পারলাম, আমাকে আরও ধ্যান-সাধনা করতে হবে।
বাংলাদেশের কোন পীর-ফকির ধ্যান-সাধনার একটি স্কুল খোলেন নাই এবং খুলবার প্রয়োজনই মনে করেন নাই। তাই অন্তর দিয়ে আকুল আবেদনটি জানিয়ে গেলাম: আসুন, ঝাঁকে ঝাঁকে আসুন- তারাই আসুন সত্যসাগরে যারা অবগাহন করতে চান। ভুলে যাবেন না, আহ্বানটি সবার জন্য নয়।
-ময়েজ উদ্দীন আল জাহাঙ্গীর।
ভণ্ড পীর ও পাগলা কুকুর হতে সাবধান
তাই আবারও আহ্বান করছি : আসুন সত্যসাগরে অবগাহনের নিমিত্তে। যদি আমাদের ডাকে আপনি সাড়া না দেন, তবে হাশরের মাঠে অবশ্যই কাঁদবেন, অবশ্যই কাঁদবেন, অবশ্যই কাঁদবেন।
২. ভণ্ড পীর হতে সাবধান
-ময়েজ উদ্দীন আল জাহাঙ্গীর
অদেখা-অচেনা এবং যাকে দেখা যায় না এবং বড় বড় গুলি, গাউস, কুতুব, আবদাল, আরিফদের ছবিগুলো ভক্তি সহকারে ফুলের মালা আর আগরবাতি দিয়ে বিনয় আর শ্রদ্ধা দেখানো অনেক সহজ। ঐ ছবিগুলো কোনদিন কথা বলবে না। ঐ ছবিগুলো কোনদিন আদেশ-নিষেধও করবে না, তাই মনগড়া কথার মালা গেঁথে অনেক কিছুই বলা যায়। আপন প্রবৃত্তির পূজা করা যায়, এই পূজা করাটাই হলো মূর্তিপূজা করা, এটাই তো চিরন্তন ঐশী বাণী। তাই আল্লাহ্র বিখ্যাত ওলি হজরত বাবা বশরে হাফি বলে গেছেন, আল্লাহ মানা খুবই সহজ পীর মানা খুবই কঠিন। তাই জীবন্ত গুরুকে মেনে নেওয়াটা খুবই কঠিন। জীবন্ত শুরু তথা পীর অনেক রকম আদেশ- নিষেধ করবেন এবং সেই আদেশ-নিষেধগুলো কখনও আপন প্রকৃতি মেনে নেবে না। সেই মানুষটির সঙ্গে যে খান্নাসরূপী শয়তান, যাকে প্রাচীন কালের মুনি ঋষিরা মায়া বলতেন, সেই খান্নাস অথবা মায়া মোচড়া-মুচড়ি শুরু করে দেয়। আপন নফ্স হতে খান্নাসকে মুক্ত করা তথা মোহ-মায়াকে ছিন্ন করা মোটেই সহজ কথা নয়। এই উলঙ্গ সত্যটি নফসের কাছে তথা প্রাণের কাছে (রুহ নয়, কারণ রুহ সৃষ্টির বাইরে) অত্যন্ত অপছন্দনীয়, কারণ আপন জীবন্ত পীরই খান্নাস মিশ্রিত নটিক আদেশ-নিষেধ করেন।
আবার পীর নামের অনেক ভক্ত আছে যারা এমন সাজ-সজ্জায় নিজেকে জড়িয়ে রাখে যেন দেখে মনে হয় আল্লাহ্র ওলি। কত সহজ কাঁচাগলা মোমের মতো মানুষগুলোকে মুরিদ করে ভণ্ড পীরেরা কোবরা সাপের মতো ছোবল মেরে তাদের সব কিছু লুটে নেয়। তাই মুরিদ হতে চাইলে কম করে হলেও দুই-তিন বছর খুব ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে নিতে হয়। ইহাও সত্য যে এই পর্যবেক্ষণের ভেতরে তকদিরের লিখনটি লেখা থাকে। এই তকদিরকে ভেঙ্গে ফেলা অসম্ভব। তবে কামেল পীর তকদির