বাংলাদেশ ঢাকা জেলা সদর দক্ষিণ দোহার থানার অন্তর্গত জামালচর গ্রাম নিবাসী মুন্সী মরহুম কহিমুদ্দীন তালুকদার সাহেবের পুত্র আমি। বাংলা ১৩২৭ সালের অগ্রহায়ণ মাসে এ হতভাগাকে চির এতিম করিয়া তিনি প্রভুর সান্নিধ্যে পাড়ি জমাইয়াছেন। তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ৭ বৎসর। তাঁহারাই ধর্মগ্রন্থ নিয়া খারেজী মাদ্রাসায় অধ্যায়ন করিতে থাকি। কারীয়ানা মতে কুরআন শরীফ খতম করিয়া ৩-৪ খানা উর্দু কিতাব ও ফার্সী বয়েত পাঠকালীন স্বগ্রামের মসজিদের গণ্যমান্য ব্যক্তিগন আমাকে উক্ত মসজিদের ইমাম পদে নিযুক্ত করেন।
মৌলুদ শরীফ পড়াকালীন 'মৌলুদে দেল পছন্দ' কিতাবে পড়িয়াছি “পঞ্জে ছাপা মুহাম্মদ, গঞ্জে ওফা মুহাম্মদ নূরে হুদা ৪ মুহাম্মদ, ছাল্লে আলা মুহাম্মদ" মন্ত্রের ন্যায় আবৃতি করে পাঠন্তে মৃতদের রূহের মাগফিরাত কামনা করিয়াছি। দুঃখের বিষয় হইলো যাহা পাঠ করিয়াছি তাহার কিছুই বুঝি নাই। গঞ্জ-ই বা কাকে বলে? আর ছাফা বা নূর কি বস্তু? তাহার বুঝ পাইলাম অনেক দিন পরে চিন্তীয়া তরিকায় বায়াত হওয়ার পর যখন পীর কেবলা সাহেব দয়া করিয়া তাসওয়াফ জ্ঞান দান করিলেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামায়াতের সহীত আদায় করিতাম তখন। তাহাজ্জুদ নামাজও অনেক দিন পড়িয়াছি। দূরভাগ্য বসতঃ নামাজে আমার মিরাজ ও চক্ষু শীতল হইল না। কারণ নামাজের বস্তু আমার চিনা জানা ছিল না। এইসব বিষয় নিয়া দোযখের ভয়ে মন সব সময় চিন্তিত থাকিত।
বাংলা 'দেল দেওয়ানা' কিতাবে দেখিতে পাই যে “তারিফের বহু নাম, খাছ এক নাম, সেই নাম ভাবো গিয়া মারফত মোকাম।। সেই নামে জানো ভাই যত পাপ হরে, মানুষের কিবা শক্তি এতো পাপ করে।” আমি ঐ খাছ নাম তথা ইছমে আযম শিক্ষার উদ্দেশ্যে স্বগ্রামবাসী নয়ন মোল্লা সাহেবের পায়রবী করি ১২ থেকে ১৪ বৎসর। নাম শিক্ষা হইলো বটে কিন্তু মনের অন্ধকার যায় না। ফরিদপুরের দরবেশ কিতাব উদ্দিন সাহেবের ভক্ত এবং পরবর্তীতে সুরেশ্বরী মাওলানা জান শরীফ সাহেবের দরবারের দোহার গ্রাম নিবাসী ওয়াহেদ আলী ফকির সাহেব আমার কথা শ্রবনে আমার প্রতি সন্তুষ্ট হইয়া কিছু শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আমার গরীবালয়ে যাতায়াত করেন এবং আমিও যথাসাধ্য তাঁহার পায়রবী করিতে থাকি। এর কিছুদিন পর শেরপুর নিবাসী বিয়াই সাহেব পীর ভাই মোঃ ইরফান উদ্দিন চিন্তী সাহেবের সাথে তত্ত্ব আলোচনায় সংঘর্ষ হয়। জাত- সেফাত, আহলে বায়াত, কুরআন ও কালেমা ছাবেত, নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত, কুরবানী এসবের জাহেরী ও বাতেনী মোকাম ও মঞ্জিল, মোয়াক্কেল ও আমানত এসমস্ত নিয়া তর্কের ফলে দেখা গেল যে আমার মাঝে এখনও আধ্যাত্মিক জ্ঞানের অভাব রইয়াছে। তাই মনে করিলাম, যদি ঠকিয়া শিখিতে পারি, তবে জীবনে।