ষণের অত্যাচার নিপীড়ন ত
তা করে বাণিত হন। তাদের সম্মান, ই
অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য তিনি মহান পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি ঘোষণা করেন, 'নারী হচ্ছে পুরুষের অর্ধাংশ। সন্তানের বেহেশত তার মায়ের পদতলে। এ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ নারী, সে-ই উত্তম, যে তার স্ত্রীর প্রতি উত্তম ব্যবহার করে।' এভাবে কুরআন-হাদিস নারী জাতিকে ইহজগত হতে পরজগত পর্যন্ত শ্রেষ্ঠ আসন দান করেছে। রাসুলে করিম (দ.) এভাবে নারীর অধিকার অতিকায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। এই অবদান সর্বজনস্বীকৃত। গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থাপনায় নর-নারীর অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ দুই গোষ্ঠীর সুমহান কীর্তির ফসল সুন্দর এ পৃথিবী। তাই আমাদের জাতীয় কবি কাজী ইসলাম যথার্থই বলেছেন,
'বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর।
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর।'
বর্তমান যুগে এসে নারীরা যেহেতু সম্মান ও মর্যাদার অধিকারিত্ব লাভ করেছে ইসলাম এবং নবী মহাম্মদ (দ.)-এর অবদান তার অন্যতম। কিন্তু মানব সৃষ্টির প্রাথমিক যুগ থেকে তাদের অবস্থা এমন ছিল না। নারীদের শোচনীয় পরিণতি ঘটে অস্বকার যুগে। এ সময় কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেয়া, নারীদের সম্পদের অধিকার হরণ, বন্ধকী সম্পত্তিতে পরিণত করা, ভোগ বিলাসের পণ্য হিসেবে জরা-বিক্রয়, ধর্ষণ, নির্যাতন করা ছিল নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। ফলে পুরুষশাসিত সমাজে নারীদের অন্যায়ভাবে কঠোর হস্তে দমন করার এক জঘন্য ও বর্বর দৃষ্টিভঙ্গি সূচিত হয়, যা আজও আমাদের সমাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিদ্যমান। নারীদের প্রতি এসিড নিক্ষেপ, ধর্ষণ, নির্যাতন, যৌতুকের জন্য খুন বা হত্যা, কথায় কথায় তালাক, বিয়েতে কন্যার মতামত না দেয়া এবং মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের মত অমানবিক ঘটনা আমাদের সমাজে অহরহ ঘটছে। এখনও আমরা নারী শিক্ষাকে ঘৃণা হিসেবে বিবেচনা করি। তাদেরকে পণ্য হিসেবে গ্রহণ করি। একমাত্র ইসলামই নারীদের অধিকার সম্পর্কে সুস্পষ্ট বিধান আরোপ করেছে। পবিত্র কুরআন পাকে ও হাদিস গ্রন্থে তাদের জন্য নির্দেশগুলো এমনভাবে এসেছে যাতে নারীরা স্বীয় অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়। নারী শিক্ষা সম্পর্কে রাসুল (দ.) বলেছেন, “তলাবুল ইলমি ফারিদাতুন আলা কুল্লি মুসলিমিন ওয়া মুসলিমাতুন' অর্থাৎ প্রতিটি মুসলমান নর-নারীর জন্য শিক্ষা অর্জন অতি অবশ্যই কর্তব্য।'
ইসলাম নারী-পুরুষকে বন্ধু হিসেবে ঘোষণা দিয়ে বলেছে, "বিশ্বাসী পুরুষ ও মারী একে অপরের বন্ধু। কুরআন পাকে বলা হয়েছে, ‘পুরুষ হোক বা নারী হোক আমি তোমাদের কারোর সৎ কাজ বৃথা যেতে দেব না।' এখানে নারীর চেয়ে পুরুষকে কোন শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করা হয়নি বরং নারী-পুরুষকে সমতার বিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ নারী-পুরুষ উভয়ে সৎকাজ, সম্মান, ইজ্জত, মর্যাদা ও অধিকারের ক্ষেত্রে সমান দাবিদার। বিশ্বাস, নারীরা গুণবতী।