সত্যকে জানো, সত্যকে বুঝ এবং সত্যকে মানো। অনুমান-কল্পনা ত্যাগ করো, নয়তো সত্যকে পাবে না। সত্যকে জেনে তাকে ধারণ করাই হলো মানবধর্ম ইসলাম। প্রতিটি মানুষের মাঝেই সেই চিরসত্য আল্লাহর রুহ মানবাত্মা সুপ্ত অবস্থায় বিরাজমান আছে। তিন জমাতের বা আঠার হাজার মাখলুকাতের গুণ-খাছিয়ত হতে বের হতে পারলেই মানবাত্মার জাগরণ ঘটে এবং ইসলামে দাখেল হওয়া যায়। যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে তারাই হলো মুসলমান, মুসলমানের পরিচয় হলো স্বাধীন, মুক্ত। বাস্তবভিত্তিক ইসলামের পঞ্চস্তম্ভ প্রয়োগ হলেই রুহুলুল্লাহ মানবদেহের মাঝে আবির্ভাব হয়, মানুষকে চিরঞ্জীব বা মৃত্যুহীন জগতে নিয়ে যায়। সমস্ত নবী-রাছুল এবং অলি-আউলিয়াগণ এ শিক্ষাই দিচ্ছে মানব জাতিকে। তাতে মানুষের পরিচয় নিহিত আছে। মানুষ স্বীয় পরিচয় লাভ করলেই সকল মানুষের মাঝে ঐক্যতার নিদর্শন দেখতে পাবে এবং চলে আসবে ঐক্যতার ভিতরে। মানুষের মাঝে ঐক্যতা সৃষ্টি করা মানবাত্মার কাজ- যা নামাজ, রোজা, সদকার চেয়েও উত্তম বলে হাদিস শরীফে বিধৃত আছে। ফলে মানুষের মাঝে দয়া, মায়া, প্রেম-মহব্বত, চির-চৈতন্য, মুক্ত মনের সৃষ্টি হয়ে ভাষার মাধুর্য্যতা প্রকাশ পাবে- যা মানবাত্মার গুণ-খাছিয়ত। সমাজেও নিত্যানন্দ বিরাজ করবে- যা মানবাত্মার সার্বজনীন মানবধর্ম ইসলামের ফলাফল। এ শিক্ষা যে শিক্ষাকেন্দ্রে (মাদ্রাসায়) নেই তা ধর্ম শিক্ষা অবশ্যই নয়। মানবাত্মার অধিকারী মানুষই হলো খাঁটি মুসলমান, খাঁটি হিন্দু, খাঁটি বৌদ্ধ, খাঁটি খৃষ্টান। এ পথই হলো মানব মুক্তির পথ। ধর্ম একটিই বিধায় ধর্মান্তরিত বলতে কিছু নেই, লৌকিক ধর্ম বহু আর তার ধর্মান্তরিত আছে, আর তা হলো কেবল কতোগুলো আচারানুষ্ঠানের পরিবর্তন মাত্র- যা পরলোকে কোনোই কাজেই আসবে না। কাজেই সেই চির সত্য রুহুলুল্লাহকে ধারণ করে বা টর্গেট করে যারা কথা বলে না, লেখালেখি করে না বা অনুষ্ঠান করে না তারা মূর্খ, ধর্মান্ধ ধিকৃত মৌলবাদ। আর মৌলবাদ হলো মানব জাতির জন্য অভিশাপ এবং মানব সভ্যতার জন্য হুমকিস্বরূপ। এরা ইসলামের কেউ নয়। কেবল ধর্মের বেশ ধরে, ধর্মের ছদ্মাবরণে বাস করা কতোগুলো প্রতারক। এরাই অলি-আউলিয়াদের বিরোধীতা করে মানুষকে ধর্মের নামে ধিকৃত মৌলবাদে দীক্ষিত করে পথভ্রষ্ট করে চলছে। তারা আলমে নাছুতে (পশুত্বের জগতে) বাস করে অথচ খাঁচায় আবদ্ধ তোতা পাখির মতো ধর্মের বোল গেয়ে চলে। তাদেরকে চিনতে না পারাটাও বিপদগামীতার সুস্পষ্ট লক্ষণ। এ বইটি সেই মুখোশধারীদেরই কিঞ্চিৎ ইতিহাস।
