সঙ্গীত অনুপম সুন্দর। সঙ্গীতের সুলালিত্য সুমধুর সৌন্দর্য শ্রুতি রস তথা সুরের অপূর্ব কলা-কৌশলে মানব হৃদয়ের সকল কলুষতা মুক্ত করে স্ববৈশিষ্টকে সঠিক মার্গে চালিত করতে সক্ষম হয়। তাই সঙ্গীতকে সর্বশ্রেষ্ঠ তথা সর্বাৎকৃষ্ট বিদ্যা বলা হয়ে থাকে। সঙ্গীত সকল বিদ্যার উর্ধ্বে। তাই আমাদের বাল্যকাল থেকেই সঙ্গীতের পাঠ গ্রহণ এবং সঙ্গীত সমন্ধে যথাযথ ভাবে জ্ঞানার্জন করা একান্ত অপরিহার্য।
পৃথিবী পরিবর্তনশীল। কালের আবর্তে যেমন সব কিছুর পরিবর্তন ঘটে তদ্রুপ সঙ্গীতেরও অনেক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে তা অনিস্বিকার্য। অনুধাবন করা যায় যে, সুপ্রাচীন যুগে অর্থাৎ তৎযুগে যে ধারায় সঙ্গীত প্রচলিত ছিল এবং যে ধারায় সঙ্গীত শিক্ষার্জন করা হতো বর্তমানে সেই দুর্গম্য-দুর্বোধ্য ধারা অবাঞ্ছিত এবং বিলুপ্ত। বর্তমানে প্রত্যেকেই সহজে সঙ্গীতের শিক্ষা গ্রহণ এবং এর সুকলাকৌশল স্বআয়ত্ব
বর্তমানে সঙ্গীতের বিশেষ প্রচার ও প্রসার লাভ করলেও আমাদের দেশে সঙ্গীত শিক্ষার উপযুক্ত গ্রন্থের যথেষ্ট অভাব বিদ্যমান। তবে আমার লেখা সঙ্গীত বিষয়ক বিভিন্ন প্রকার গ্রন্থসমূহ দ্বারা সঙ্গীত শিক্ষার্থীরা কতটুকু উপকৃত হয়েছে তা আমার অবিদিত অপরিজ্ঞাত । তবুও হৃদয়ের প্রেরণায় বিভিন্ন অবাঞ্ছিত সমস্যার আবর্তে লিখে চলছি। এতদৎ প্রতিকূলতা সত্যেও সঙ্গীত শিক্ষার পথ প্রশস্ত করার উদ্দেশ্যে সঙ্গীত শিক্ষার্থীদের জন্য, সহজ সরল ও প্রাঞ্জল ভাষায় “সহজ হারমোনিয়াম শিক্ষা” বইটি লিখতে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলাম। এতে কণ্ঠ সাধনার বিভিন্ন প্রকার গৎ, তথা সহজতর ভাবে বিভিন্ন রাগ গাইবার পদ্ধতি, রাগের লক্ষণ গীতি, খেয়াল এবং একটি করে তারানা, এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের গানের স্বরলিপি এবং সঙ্গীতের বিভিন্ন তথ্য সহজ এবং সাবলিল ভাবে সংযোজন করলাম । ফলে প্রত্যেক সঙ্গীত শিক্ষার্থী এবং ছাত্র-ছাত্রীরা সুষ্ঠু সুন্দর ভাবে এবং অক্লেশে বিভিন্ন রাগ তথা বিভিন্ন ধরনের গান নিজেরাই স্বরলিপি থেকে হারমোনিয়ামে উঠিয়ে গাইতে পারবে বলে আমি মনে করি।
সঙ্গীতামোদি সুধী পাঠক বৃন্দ এবং সঙ্গীত শিক্ষার্থীদের নিকট আমার বিনীত