হানাফী মাযহাবের একনিষ্ঠ অনুসারী ও বোদ্ধা। আর ছিলেন আধ্যাত্মিকতার দিক থেকে নেসবতে সিদ্দীকির (হজরত আবুবকর সিদ্দীক রা. এর আত্মিক সংশ্লিষ্টতার রঙে পূর্ণ রঞ্জিত। মোজাদ্দেদিয়া তরিকার তৎকালীন সর্বশ্রেষ্ঠ আরেফ হজরত মাযহারে শহীদ জানে জানা র. এর প্রিয় মুরিদ ও খলিফা ছিলেন তিনি। এভাবেই তিনি তাঁর প্রজ্ঞাকে করেছিলেন অধীত বিদ্যা (এলমে হুসুদী) এবং সত্তাসঞ্জাত বিদ্যার (এলমে হুজুরীর) অবাক সমাহার। তাই তার বিবরণে রয়েছে একই সঙ্গে রহস্যের সুবাস, বুদ্ধির ঝলক এবং সুসিদ্ধান্তের সংশ্লেষ। তাফসীর শাস্ত্রের জগতে তিনি এনেছেন বর্ণনা পরস্পরার (রেওয়ায়েতের) সঙ্গে বুদ্ধিবৃত্তির (দেরায়েতের সম্মিলিত নির্ভরতা। তার সঙ্গে মিলিয়েছেন অন্তর্দৃষ্টির (ফেরাসাতের) নিখুঁত পর্যবেক্ষণকে। তাই তিনি কালজ হয়েও কালোত্তর। অস্তরাগ হয়েও স্মরণমুখরযারা স্থূলদর্শী এবং তাফসীর শাস্ত্রকে স্বকপোলকল্পিত মতবাদের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করতে অভ্যন্ত ভারা তো পেচকসদৃশ । সমুজ্জ্বল সূর্যালোক তাদের কাম্য নয়। তারা এ জানো এড়িয়ে চলতে চায়। তাফসীরে মাযহারীর বিলম্বিত বঙ্গায়নকেও তারা হয়তো ভদৃষ্টিতে দেখতে নারাজ ।অন্তরের আলো ছাড়া কোনো বিষয়ের মূল প্রকৃতি অনুভবগ্রাহ্য হয় না। জালোকিত অন্তর্লোক ছাড়া সরল পথরেখা দৃষ্টিগ্রাহ্যও হয় না। আর শ্রুতির আওতায়ও আসে না আল্লাহ্পাকের অমোঘ ঘোষণাটি – আলা লিল্লাহিদ্ দীনুল খলিছ (সাবধান হও -আল্লাহ্র জন্যই বিশুদ্ধ ধর্ম)। এই অন্তর্লোকের প্রবহমানতাকে যথামান্যতা দিয়েছেন আমাদের সম্মানিত তাফসীরকারক। তাফসীর গ্রন্থটির নামকরণে মুদ্রিত রেখেছেন তাঁর পীর কেবলা ও কাবা'র নাম। কারণ, প্রকৃত অর্থেই জ্ঞানী ছিলেন তিনি। পীর ও মোর্শেদের তাওয়াজ্জোহ্ ব্যতিরেকে যে মানুষের জ্ঞানকেন্দ্রের সম্ভাবনার পূর্ণউন্মোচন ঘটেনা – তা তিনি জানতেন । দ্বিতীয় সহস্রাব্দের মোজাদ্দেদ হজরত শায়েখ আহমদ ফারুকী সেরহিন্দী রহমাতুল্লাহি আলাইহির সংস্কার প্রবাহের এক বিরল বিকাশকে তাঁর মাধ্যমে বিকশিত হতে দেখেছি আমরা । সেই মহান মোজাদ্দেদের খলিফা ছিলেন হজরত খাজা মোহাম্মদ মাসুম সেরহিন্দী – তাঁর খলিফা খাজা সাইফুদ্দিন সেরহিন্দী – তাঁর খলিফা খাজা নূর মোহাম্মদ বদাউনি এবং তাঁর খলিফা ছিলেন মাযহারে শহীদ জানে জানা রহমতুল্লাহি আলাইহিম আজমাইন ।আমরা আমাদের অযোগ্যতাকে স্বীকার করেই মহাগ্রন্থ আল কোরআনের এই জ্ঞানগর্ভ তাফসীর গ্রন্থটি বাংলায় রূপান্তরিত করবার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। হাকিমাবাদ খানকায়ে মোজাদ্দেদিয়া কেন্দ্রিক কতিপয় ফকির দরবেশের যুথবদ্ধ উদ্যোগটিকে আল্লাহপাকই তার আপন করুণায় বাস্তব রূপ দিয়ে চলেছেন । বিজড়িত পদক্ষেপকে দান করেছেন শক্তি, সহায়তা ও বাস্তবতা। আর আমরাও এগিয়ে চলেছি কেবল সাকদের বিশুদ্ধতাকে অবস্থান করে। আমাদের সঙ্গী হিসেবে সদাজাগ্রত রয়েছে ভর ও সাহস। পার্শী আমরা। সকল অপরাধের জন্য আমরা ক্ষমাপ্রা িনিবেদন জানিয়ে চলেছি আমাদেরই পরম প্রেমার
মাটির মানুষের প্রতি আল্লাহ্ পাকের অনুগ্রহের সীমা পরিসীমা নেই। অনস্ত জীবনের প্রস্তুতিপর্ব এই পৃথিবীতে তিনিই প্রেরণ করেছেন আমাদের প্রকৃত সুহৃদ নবী ও রসুলগণকে। এ হচ্ছে তাঁর অপার অনুকম্পা। তাঁদের মাধ্যমেই এসেছে জ্ঞান, প্রেম ও পথনির্দেশনা ।জ্ঞানের পথই প্রকৃত পথ। আর প্রকৃত জ্ঞান হচ্ছে প্রত্যাদেশসঞ্জাত জ্ঞান। মহাগ্রন্থ আল কোরআনই সর্বশেষ প্রত্যাদিষ্ট গ্রন্থ। প্রত্যাদেশ (ওহী) আর আসবে না। সুতরাং শেষতম, শ্রেষ্ঠতম ও পূর্ণতম রসুল মোহাম্মদ মোস্তফা আহমদ মুজতাবা সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়া সাল্লামের প্রতি অবতীর্ণ মহাজ্ঞানের আকর এই কোরআনুল করিমের দ্যুতিকেন্দ্রে এসে দাঁড়াতেই হয় সকলকে। বিশ্বাসীকেও। অবিশ্বাসীকেও। কিন্তু বিশ্বাসীরা পথ পায়। অবিশ্বাসীরা পায় না। বিকৃত বিশ্বাসীরাও পথে থেকে যায়। গন্তব্যের সন্ধান জানে না। আমরা যারা চাই জ্ঞানের উদ্বোধন, চাই পথ ও পথশেষের নির্ভুল সফলতা • তাদেরকে কোরআনকেন্দ্রিক মানস গঠন করতেই হবে। এর বিকল্প কিছু নেই।-অনস্তিত্বের অন্ধকারে আমরা আলো হয়ে ফুটেছি। কার দয়ায়? কার দানে? কার অভিপ্রায়ে? কার মহিমায়, কার পরাক্রমে নিশ্চিত হচ্ছে আমাদের জীবন, আমাদের মৃত্যু, আমাদের জীবনোপকরণ। আমাদের রোদনে ও রহস্যে বার বার এ সকল প্রশ্ন নাড়া দিয়ে যায় ।অনুসন্ধিৎসার বিরল বাতাসে বার বার আন্দোলিত হতে হতে আমরা এখন এসে পড়েছি একবিংশ শতাব্দীর উপকূলে। সাথে করে এনেছি উত্তরাধিকার, অঙ্গীকার মহাযাত্রার, মহাজীবনের। অভিজ্ঞানের অনন্ত অভিযাত্রা অকূল পাথারের হাতছানি হয়ে আমাদেরই জন্য অপেক্ষমান। যারা যাত্রী তারা কোথায়?—-—এসো মানবতা। এসো বেহেশত থেকে আগত প্রথম মানুষের রক্তপ্রবাহ । এসো শেষতম ও শ্রেষ্ঠতম প্রত্যাদিষ্ট পুরুষের অক্ষয় প্রজ্ঞার উত্তরাধিকার এসো গ্রহণ করি আমাদের সত্তার, আত্মার, পিপাসার পরিচয়। প্রত্যাদেশিত পাদপ্রদীপেই তো রয়েছে আমাদের প্রত্যয়িত প্রশ্রয়। সত্তাপবিহীন, স্খলনহীন আশ্রয় ।মূর্খতার তিমির ভেদ করে আমাদেরকেই হয়ে উঠতে হবে সূর্যোদয়সম জ্ঞানোদয়ের শাদা ভোর। তাজা প্রত্যূষ। শানিত সকাল। তাই এই অনন্য আধ্যাত্মিক উৎসব। মহাগ্রন্থ আল কোরআনের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণসমৃদ্ধ অমর উদ্যোগ তাফসীরে মাযহারীর বঙ্গ-পদবিক্ষেপ।বাংলাদেশের মর্মমূলে রয়েছে আল্লাহ প্রেম, নবী প্রেম ও অনন্তজীবনের প্রেম । কিন্তু হৃদয়ের এই অনাবিল আর্তিকে আমরা মান্য করেছি বড় বিলম্বে। নইলে প্রায় তিনশ' বছর আগের এই কালজয়ী সৃষ্টিকে এতদিন পরে বঙ্গ-দর্পণে ও দর্শনে প্রতিবিম্বিত হতে দেখবো কেনো?তাফসীরে মাযহারী প্রণেতা শ্রদ্ধাই কাযী ছানাউল্লাহ পানিপথী র. ছিলেন প্রথিতযশা আলেম ও আরেফ। ইসলামের তৃতীয় খলিফা হজরত ওসমান জিনুরাইনের অধস্তন বংশধর ছিলেন তিনি। ছিলেন আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের
প্রভুপ্রতিপালক আল্লাহ জাল্লা শানুহুর দরবারে। হে আমাদের প্রিয় প্রতিপালক । আমাদেরকে মার্জনা করো। চিরতরে আমাদেরকে নিমজ্জিত করো তোমার দয়া ও ভালোবাসায় সীমাহীন সমুদ্রে। সকল পবিত্রতা, স্তবস্তুতি তোমার। সকল গৌরব, কৃতিত্ব ও মহিমাও তোমার। তুমি রহমান। তুমি পফুর। আমরা তোমারই মিল প্রত্যাশী। আমাদের বিরহকাতরতাকে প্রশমিত করো। যে মহাগ্রন্থ তুমি অবতীর্ণ করেছো তোমার অক্ষরের অমুখাপেক্ষি (উখি) রসুলের বক্ষাধারে তার আক্ষরিক অধ্যয়নের মাধ্যমে তোমার অতুলনীয় বার্নীবৈভবের দ্যুতিচ্ছটার সন্ধান যেনো আমরাও পাই ।হে আমাদের জীবন মৃত্যুর অধিকারী মহারাজাধিরাজ আল্লাহ্। তোমার অপার পরাক্রমে আমরা সন্ত্রস্ত। আমাদেরকে পরিত্রাণ দাও। দাও ভালোবাসা - তোমার, তোমার প্রিয়তম রসুলের । রসুলশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা আহমদ মুজতাবা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উদ্দেশ্যে দয়া করে পৌঁছে দাও আমাদের অস্তরোৎসারিত অফুরন্ত দরুদ ও সালাম - তাঁর সকল নবী রসুল ভ্রাতৃবৃন্দ, সম্মানিত সহচরবৃন্দ, পবিত্র পরিবার পরিজন, বংশধর ও আউলিয়া সম্প্রদায়কেও। তাঁরা তোমারই দল । তোমার দলই বিজয়ী। তাঁদের মাধ্যমে বিশেষ করে পীর ও মোর্শেদের মাধ্যবে আমাদেরকেও দান করো বিজয়। প্রবৃত্তির উপর। পার্থিবতার উপর। অজ্ঞতার উপর। আমাদেরকে সর্বশ্রেষ্ঠ অনুগ্রহ (বিশ্বাস) প্রদাতা হে আমাদের আল্লাহ্ – এই অধম ফকিরের প্রিয় ফরজন্দ ও অনুবাদক মাওলানা তালেব আলীর অনুবাদ প্রচেষ্টাকে কবুল করো। কবুল করো এই প্রকাশনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আর্থিক ও শারীরিক সকল প্রকার সহযোগীকে। আমাদেরকে দাও পৃথিবী ও পরবর্তী পৃথিবীর কল্যাণ। আর আমাদেরকে নিরাপদ রাখো আগুনের আষার থেকে । আমিন । আল্লাহুম্মা আমিন।উল্লেখ্য – বাংলা তরজমাটি আমরা গ্রহণ করেছি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কুরআনুল করীম থেকে। কারণ, এই তরজমাটিই আমাদের বিবেচনায় অধিকতর সুন্দর। এর জন্য আমরা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতি জানাই আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ।আরো উল্লেখ্য-মূল তাফসীরে মাযহারী আরবী ভাষায় রচিত। আর আমাদের অনুবাদটি করা হয়েছে দিল্লীর নাদওয়াতুল মুসান্নিকের পরিচালক মাওলানা আবদুদ্ দাঈমের উর্দু তরজমা থেকে।বিদগ্ধ পাঠক সমাজের নিকট আবেদন – মুদ্রণজনিত কিংবা অন্য কোনো বিচ্যুতি দৃষ্টিতে এলে জানাবেন। সকলের জন্য কল্যাণ কামনা ও সালাম ।মোহাম্মদ মামুনুর রশীদহাকিমাবাদ খানকায়ে মোজাদ্দেদিয়া ভূঁইগড়, পাগলাবাজার, নারায়ণগঞ্জ ।
