আর্শ— অর্থ সিংহাসন। এখানে অর্থ হইল আল্লাহর সিংহাসন বা আসন। অর্থাৎ মোমেন ব্যক্তির তথা কামেল মহাপুরুষের অন্তর। মহা পুরুষের অন্তর আল্লাহর ধন ভাণ্ডার। সেইরূপ মহান অন্তর হইতে আগত দোয়া বা একটি প্রার্থনা হইল দোয়া গঞ্জুল আরশ। কিসের জন্য ডাকাডাকি করা? বিষয় বস্তুর মোহ বন্ধন হইতে মুক্তি লাভের জন্য ডাকাডাকি করা। ১। আল্লাহ ব্যতীত উপাস্য নাই, তিনি পবিত্রঃ প্রতিষ্ঠিত রাজা, বিষয় বস্তুকে পবিত্রতা দানকারী।
"আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নাই” অর্থাৎ কামেল মোর্শেদ ব্যতীত উপাস্য নাই। “উপাসনা” অর্থ উপরে নির্ভরের আসন নেওয়া। যহার উপরে নির্ভরের আসন গ্রহণ করা যায় তিনি উপাস্য। অর্থাৎ জাহান্নাম হইতে মুক্তি লাভের জন্য সম্যক গুরুই শুধু শিষ্যের জন্য নির্ভর যোগ্য উপাস্য। এইরূপ যোগ্যতা অর্জনের মূল উৎস হইল সংস্কার সমুদ্রে ভাসিয়া থাকিবার শক্তি অর্জন। ইহাই পবিত্রতা এবং সকল প্রসংশার মূল কারণ। বিষয় বস্তুর মোহ কালীমাই মানব জীবনের আসল অপবিত্রতা।
E (সাবাহ) এবং (সোবহান) উভয় একই শব্দ হইতে উৎপন্ন এবং উভয় শব্দের ভাবগত অর্থ হইল পবিত্রতা, প্রসংশা। পবিত্রতাই বিশেষ বৈশিষ্ট্য। পবিত্রতা হইতেই প্রসংশার উদয় হয়। শব্দটির মূল অর্থ হইল সাঁতার কাটা, ভাসিয়া থাকা (to swim, to float over)। মোহমাখা সংসার-সমুদ্রে তথা সংস্কার-সমুদ্রে ডুবিয়া না থাকা। সাঁতার না কাটিতে পারিলে যেমন জলে ডুবিয়া মরিতে হয় তেমনই। বন্ধুমোহের উপর ভাসিয়া থাকিতে না পারিলে সংস্কার-সমুদ্রে
কোরানে বহুরূপে উল্লেখিত আছে।
এই দোয়ার ১০টি বাক্যের প্র্যে এই পুনরুক্তি করিয়া মোহের উপরে ভাসিয়া থাকিবার শক্তির গুণের উল্লেখ রহিয়াছে। ইহাতে আমরা সবদিক বিচার লাভের আমলের সহায়তা অর্জন করিতে পারিব।
আল্লাহ সত্ত্বা গুরুরূপে একজন কালজয়ী মহাপুরুষ। প্রতিটি ধর্ম একটি কালের সঙ্গে জড়িত হইয়া থাকে, অর্থাৎ একটি কাল সঙ্গে মানুষের নিকটে আগমনকারী প্রতটি ধর্মের সঙ্গে
তাহা যিনি জয় করিতে পারিয়াছেন তিনিই কালজয়ী মহাপুরুষ বন্ধু পক্ষে পবিত্রও নয় অপবিত্রও নয়। মহাপুরুষের যোগ্যতা বলে বস্তুর পবিত্রতা প্রাপ্ত হইয়া কুদ্দুস হইয়া থাকে যথা "আপে কুলুন" (পরিব ভূমি) ।
২। আল্লাহ ব্যতীত উপাস্য নাই, তিনি পবিত্র ও প্রতিষ্ঠিত সমান গৌরবের অধিকারী, প্রতিষ্ঠিত শক্তি সম্পন্ন বিক্রমশালী পুরুষ।
৩। আল্লাহ ব্যতীত উপাস্য নাই, তিনি পবিত্র ঃ প্রেম বিগলিত রহিম। ৪। আল্লাহ ব্যতীত উপাস্য নাই, তিনি পবিত্রঃ ক্ষমা দানকারী রহিম। ৫। আল্লাহ ব্যতীত উপাস্য নাই, তিনি পবিত্রঃ প্রতিষ্ঠিত ভাবে সম্মানিত, বিজ্ঞানময় বিচারক।
৬। আল্লাহ ব্যতীত উপাস্য নাই, তিনি পবিত্রঃ পরিপূর্ণভাবে শক্তি সম্পন্ন।
৭। আল্লাহ ব্যতীত উপাস্য নাই, তিনি পবিত্র ঃ সুক্ষ্মদর্শী খবরদার। ৮। আল্লাহ ব্যতীত উপাস্য নাই, তিনি পবিত্রঃ নিরপেক্ষ প্রভু। ৯। আল্লাহ ব্যতীত উপাস্য নাই, তিনি পবিত্রঃ ক্ষমাকারী প্রেমিক বন্ধু। ১০। আল্লাহ ব্যতীত উপাস্য নাই, তিনি পবিত্রঃ নিরাপত্তা দানকারী উকিল ।
১১। আল্লাহ ব্যতীত উপাস্য নাই, তিনি পবিত্রঃ বিশিষ্ট প্রহরী বিশিষ্ট হেফাজতকারী সংরক্ষক।
১২। আল্লাহ ব্যতীত উপাস্য নাই, তিনি পবিত্রঃ চির স্থায়িত্ব প্রাপ্ত
দণ্ডায়মান।
১৩। আল্লাহ ব্যতীত উপাস্য নাই, তিনি পবিত্রঃ প্রতিষ্ঠিত জীবন অর্পণকারী, জীয়ন্তে মরণ দানকারী (অর্থাৎ মরার আগে মৃত্যু দানকারী)। ১৪। আল্লাহ ব্যতীত উপাস্য নাই, তিনি পবিত্রঃ বিশেষভাবে চিরঞ্জীব চিরস্থায়ী।
