গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী কেবলা আলমের অন্যতম খলিফা হযরত শাহ্ সুফি মাওলানা আমিনুল হক হারবাংগিরি (রহ.) শুধু একজন কামেল আওলিয়া ছিলেন না; গীতি কবি হিসেবেও তাঁর প্রসিদ্ধি ছিল সর্বত্র। সমকালীন ভাষা এবং বর্ণনা রীতি অনুসরণ করে তাঁর লিখিত গীতি কবিতাসমূহ সময়ের সাক্ষী হিসেবে এখনো বিদ্যমান। স্রষ্টা বন্দনা, রসুল প্রশস্তি, মুর্শিদ ব্যঞ্জনায় ফুটে ওঠেছে তাঁর সাধন-ভজন ধারার তাসাওউফ চিত্র। তাঁর জীবনী গ্রন্থ নেই, তবে গীতি কবিতাসমূহ পাঠ করলে তাঁকে জানা-চেনা যায়।
যে সময়ে তিনি আল্লাহ্-রাসুল-মুর্শিদ প্রেমে গান লিখেছেন সে সময়ের সামাজিক, সাংস্কৃতিক পরিবেশের প্রাধান্য প্রকাশ পেয়েছে গানের বইগুলোর মলাটে। একজন আওলিয়া হওয়া সত্ত্বেও তিনি এতে বিন্দুমাত্র শংকিত হননি । বরং যুগভেরীর সঙ্গে মমতা প্রদর্শন করে উপলব্ধিগত সত্যে উদ্ভাসিত হয়ে তিনি তাঁর উদার চিন্তা-চেতনার আলোকে স্বীয় ধর্মমত উপস্থাপন করেছেন। গীতি কবিতা সমূহে। মলাটে-শিরোনামে প্রকাশ পেয়েছে সমকালীন ভাষাগত উচ্ছ্বাস। আর গানগুলোতে রয়েছে মানব রুহের চিরন্তন ভাবতরঙ্গ।
মাওলানা আমিনুল হক হারবাংগিরি (রহ.) লিখিত 'জুম্লে আম্বিয়া ও জুম্লে আওলিয়া' গীতি সমগ্রহে এলাহি বন্দনা, বিশ্বনবী (দ.)'র সানা-সিফত বর্ণনার পাশাপাশি প্রায় সকল নবী-রাসুলের প্রশস্তিতে লিখা হয়েছে জুম্লে আম্বিয়া । এর পরই রয়েছে চার প্রধান সাহাবাসহ বেশ কয়েকজন আসহাবের জীবনে সংঘটিত শিক্ষণীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার বর্ণনা। ক্রমানুসারে আওলিয়ায়ে কেরামের প্রশস্তি বর্ণনা করা হয়েছে হযরত ওয়ায়েছ করণী (রহ.) থেকে শুরু করে বাংলার জমিনে উদ্ভাবিত ত্বরিকা-ই মাইজভাণ্ডারীয়ার প্রবর্তক গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (ক.)-সহ অনেক আওলিয়ার শান, কারামত ও বুজুর্গি উপস্থাপন করে। তিনি হযরত ওয়ায়েছ করণী (রহ.)-কে সম্মান জানিয়েছেন গায়েবী আসহাবের প্রধান