ফকিরির গোপনেরও গোপন কথা- একটি ‘সুফিবাদ আত্মপরিচয়ের
সুফিবাদ আত্মপরিচয়ের একমাত্র পথ [প্রথম খন্ড]
সুফিবাদ আত্মপরিচয়ের একমাত্র পথ [দ্বিতীয় খন্ড]
সুফিবাদ আত্মপরিচয়ের একমাত্র পথ [তৃতীয় খন্ড]
সুফিবাদ আত্মপরিচয়ের একমাত্র পথ [চতুর্থ খন্ড]
যাঁকে আমি পরম শ্রদ্ধার সাথে সব সময় মনে করি
প্রথমেই আমি পরম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি পরম পূজনীয় শাহ সুফি সৈয়দ সদর উদ্দিন আহমদ চিশতীকে, যিনি আমার আপন মেঝ চাচা। আমি বাল্যকালে আমার জন্মদাতা, কেরানীগঞ্জ উপজেলার প্রথম এম এ, বি টি হেলাল উদ্দিন আহমদকে আজ হতে প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে হারিয়েছি। সুফিবাদের উপর ধ্যান- ধারণার উৎসাহটি পেয়েছি এবং হাঁটি হাঁটি পায়ে সুফিবাদের দিকে অগ্রসর হয়েছি যাঁর কারণে, তিনি আমার জগতগুরু আপন চাচা শাহ সুফি সদর উদ্দিন আহমদ চিশতী।
আমার একটি খারাপ অভ্যাস ছিল, আর সেই খারাপ অভ্যাসটি হলো, প্রতিদিন দশ-পনের ঘন্টা লেখাপড়া করতাম। এই জন্য আমাকে আমার বন্ধুরা বইয়ের পোকাও বলত। আমি প্রচণ্ডভাবে নিরপেক্ষ একজন মানুষ। সত্যসন্ধানের পথে কোনো মতবাদের সাইনবোর্ড আমার কাঁধে তুলতে দেই নাই। তবে যুক্তির পেছনেও যে অনেক বোবা যুক্তি দাঁড়িয়ে হাসতে থাকে, সেটা বিশেষ রহমত ছাড়া জানা যায় না। ইহুদি ধর্মের মোল্লা-মুফত্রিা যিশুকে শূলীতে চড়িয়ে বলেছিল যে, আমরা নিজেরাই সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি মৃতকে জীবিত করতে পার; কিন্তু এবার আমরা তোমাকে শূলীতে চড়িয়েছি এবং আমাদের এই শূলী হতে যদি বেরিয়ে আসতে পার তবেই ধরে নিব, তুমি সত্য নবি। কিন্তু যিশু সেই শূলী হতে বেরিয়ে আসেন নি। এই যুক্তিটিতে যুক্তি আছে বটে, কিন্তু সত্যটি নাই। কেন নাই? যদি সত্যিই যিশু সেই শূলি হতে বেরিয়ে আসতেন তা হলে সবাই মুসলমান হয়ে যেত এবং সবাই মুসলমান হয়ে গেলে আল্লাহ পাকের ‘তোমাদের পরীক্ষা করার জন্য এই দুনিয়াতে পাঠিয়েছি'- কথাটির সৌন্দর্য আর থাকে না। অথচ যুক্তির কথাগুলোর বাঁধন বড় শক্ত। এবং এই যুক্তির শক্ত বাঁধনের ফাঁদে পড়ে অনেকেই ইমান হারিয়ে ফেলবে। কিন্তু এই শক্ত যুক্তির ভেতরে যে বিন্দুমাত্র সত্য নাই, বরং যুক্তির ডুগডুগি বাজিয়ে, যুক্তির ভেলকিবাজি দেখিয়ে, যুক্তির জাদু দেখিয়ে হিপনোটাইজ করে ফেলে। পূর্বজন্মের কর্মফলের উপর ভিত্তি করেই তকদিরটি দাঁড়িয়ে আছে। এই তকদির যে স্থানের উপযুক্ত সেখানেই নিয়ে যাবে। এটাই তকদিরে মোবরাম তথা যে তকদিরের আর বদল হয় না।
উৎসর্গ
আমার পীর ও মুরশিদ কেবলায়ে কাবা সাইয়্যেদ শাহ্ সূফী মাওলানা জালাল নূরী বাবাজানের স্ত্রী তথা আমার পীর মা বেগম সুরাইয়া আল সুরেশ্বরী,
এবং
আমি কেবল আমার পীরেরই গোলাম নই, বরং তাঁর আওলাদদেরও গোলাম । তাই তাঁদের সবার নামে উৎসর্গ করে গেলাম :-
সাইয়্যেদ শাহ্ নূরে কামাল, সাইয়্যেদ শাহ্ নূরে বেলাল, সাইয়্যেদ শাহ্ নূরে ইকবাল, সাইয়্যেদ শাহ্ নূরে শাহানশাহ্, সাইয়্যেদ শাহ্ নূরে আলম, সাইয়্যেদা ফরিদা নূর, সাইয়্যেদা শহীদা নূর, সাইয়্যেদা ইরানী নূর ।
মহানবীর প্রেমিক আল্লামা জামী বলেছেন, “বাসাত্ কো সাদা গাতা বেচারায়ে জামী, গোলামে গোলামানে আলে মোহাম্মদ।” “অধম জামী তো সব সময় এই চিন্তার মাঝে বাস করে (কারণ) আমি তো কেবল আপনারই (মহানবী গোলাম নই, বরং আপনার বংশেরও গোলাম । ”
হাজা হাবিবুল্লাহ মাতা ফি হুবুল্লা সুলতানুল হিন্দ খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী বলেছেন, “জানে মান নেসারাম, বানামে হুসায়েন মোনামে গোলামে গোলামানে হুসায়েন”। “আমার জীবন হুসায়েনের নামে কোরবানী করে দিয়েছি, হুসায়েনের যিনি গোলাম আমি তাঁরই গোলাম।”
বিশ্ব বিখ্যাত ‘মসনভী' শরীফের রচয়িতা মাওলানা জালাল উদ্দীন রুমী বলেছেন, “খোদবোখোদ মোল্লা রোম কামেল না শোদ, তা গোলামে সামসেত্তাব্রীজি না শোদ”। “মোল্লা রোম নিজে নিজে কামেল হতে পারেনি যে পর্যন্ত না সামসেত্তাব্রীজের গোলামী করেছে।”
হজরত মুজাদ্দেদে আলফেসানী সিরহিন্দ বলেছেন, “পীরে তাসৃত আউয়াল মাবুদ তাসৃত।” “তোমার পীরই হল তোমার প্রথম মাবুদ।”
- জাহাঙ্গীর