দিগন্তবিস্তৃত নিসর্গ কতো অপরূপ। উন্মুক্ত আসমানের নীলিমা কোন সুদূরে শেষ হয়েছে কে জানে? কখনো পাহাড়ী পথ। ককনো সমতল সুবিস্তৃত শষ্যভূমি। যে দিকে সৃষ্টি যায় সে দিকেই আল্লাহপাকের কতো সহস্র নিখুঁত নিশানা ।
কাফেলা এগিয়ে চলে। চলতে চলতে পরিশ্রান্ত হয়ে গেলে থামে। বিশ্রাম নেয়। বিশ্রাম শেষে আবার এগিয়ে চলে কাফেলা। অনেক দূরের পথ। বাগদাদ এখনো অনেক দূর। জীলান থেকে প্রায় চারশ' মাইল দূরত্ব বাগদাদের।
হামাদান অতিক্রম করলো কাফেলা।
এস্থান বিপদসংকুল। লুণ্ঠনকারী দুর্ধর্ষ দস্যুদের আনাগোনা এস্থানে বেশী। যে কোনো মুহূর্তে হামলা করতে পারে দস্যুদল। সন্তর্পণে দ্রুত পথ পাড়ি দেয় কাফেলা।
হঠাৎ ষাটজন দস্যুর এক বিরাট দল আক্রমণ করে বসলো অতর্কিতে। বনিকদল আতংকিত হয়ে পড়লেন। প্রতিরোধ করবার উপায় নেই। কাজাকিস্ত ানের দস্যু এরা । দুর্ধর্ষ। নিষ্ঠুর। সশস্ত্র।
দস্যুদল নির্বিবাদে কাফেলার সমস্ত মালামাল লুঠ করলো। বালক আবদুর কাদের একপাশে দাঁড়িয়েছিলেন। একজন ডাকাত প্রশ্ন করলো তাঁকে, 'কি আছে 'তোমার কাছে?'
আবদুল কাদের উত্তর দিলেন, 'চল্লিশটি স্বর্ণ মুদ্রা।
বালকের কথায় গুরুত্ব না দিয়ে ডাকাতটি চলে গেলো।
একটু পরে এলো আর একজন ডাকাত। সেও প্রশ্ন করলো, 'তোমার কাছে কি আছে বলো।
'চল্লিশটি স্বর্ণমুদ্রা।'- জবাব দিলেন আবদুল কাদের পূর্বের মতো। কিন্তু এ ডাকাতটিও তাঁর কথায় আমল দিলো না। সেও চলে গেলো একদিকে।
কিছুক্ষণ পর অন্য একজন ডাকাত এসে আবদুল কাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললো, 'সর্দারজী ডাকছেন তোমাকে । চলো আমার সঙ্গে।
ডাকাতটির সঙ্গে তাদের সর্দারের সামনে হাজির হলেন আবুদল কাদের। সর্দার অত্যন্ত কর্কশ ভাষায় বললো, 'ঠিক করে বলো হে ছোকরা। কি আছে
তোমার কাছে?
'চল্লিশটি সোনার দীনার।' পূর্বের মতোই জবাব দিলেন তিনি।
সর্দান প্রশ্ন করলো, "কোথায় রেখেছো দীনারগুলো?'
আবদুল কাদের বললেন, 'আমার জামার আস্তিনের মধ্যে সেলাই করা আছে। সর্দারের হুকুম মতো আস্তিনের অভ্যন্তর থেকে ডাকতেরা বের করলো