কোরান শক্তিশালী আলোকিত জ্ঞান। এই জ্ঞান মুক্তির পথ ও পথের পাথেয়। কোরান শুরুতেই যা বলেছেন, সেই গুরুত্বপূর্ণ আলোকিত বাণীটি "জালিকাল কিতাবু কিতাবু লা-রাইবা, ফিহি হুদালিল মুত্তাকীন" ঐ কিতাব নিঃসন্দেহ, মোত্তাকীনদের হেদায়েতের জন্য। এখানে মোত্তাকীন তাহারা, যাহারা গায়েব এর সাথে ইমানের কাজ করে আর আল্লাহ ও তার রাসূলের সহিত স্মরণ সংযোগ রক্ষা করে সেই সাথে রবের মোকামকে ভয় করে এবং কর্তব্যপরায়ণে নত থাকে। আল-কোরান তাদের পথের পাথেয়। কোরান না বুঝার মধ্যে থাকলে পথ দেখাবে না। আল কোরানের হেদায়াত প্রাপ্তির জন্য সর্বপ্রথম ইমান আনতে হবে, "কোরান জানের গ্রন্থ"। ইহা মুখস্থ নয়, বুঝতে হবে, জানতে হবে, চর্চা করতে হবে। কোরান চর্চার অন্বেষণে উদ্ভাসিত হবে নূর। ঐ নূর প্রাপ্তি না হলে কোন মানুষ নৈকট্যের অধিকারী হবে না।
বর্তমান সভ্যতায় ধর্মীয় অন্ধতার মূল কারণ হলো কোরান না বুঝার অজ্ঞতা। মানুষ মূলতই অলস মস্তিষ্কের আওতাধীন। অলস মস্তিষ্ক সর্বদায় কম পরিশ্রমে সোনার হরিণ পাইতে আগ্রহী। তাই ছোয়াব ও স্বর্গ চাহিদার প্রবণতা বেশি। মানুষের দরকার ছিল জ্ঞান চর্চা করা। সত্য অনুসন্ধানী মনের বিকাশ ঘটানোর জন্য আল কোরান অণু অণু করে দেখা ও জ্ঞাত হওয়ার দরকার ছিল। মানুষ যাহা জানে কিন্তু বুঝে না তাহা ক্ষয়িষ্ণু ও ভ্রান্তিপ্রবণ। প্রকৃত জ্ঞান আত্মোপলব্ধির বিষয়। কোরানের যেই বাণী তোমার আত্মোপলব্ধি হবে ঐ জ্ঞানই তোমাকে আত্মশুদ্ধি দান করবে।
পবিত্র আল কোরান হলো জীবন্ত জীবন দর্শন। কোরানের জ্ঞানদর্শন অণু অণু করে দেখলে বা উপলব্ধি করলে আল্লাহ ও রাসূল (সা:)-কে দেখা হয়। কোরান একটি সমুদ্র (জ্ঞানসমূদ্র)। এই সমুদ্রে প্রবেশ করলে অনেক ঝিনুক পাওয়া যায়। ঐ ঝিনুকের মধ্যে অনুসন্ধান করলেই মুক্তা মিলে। কোরান একমাত্র তাহার জন্য পথপ্রদর্শক যিনি কোরানের জ্ঞান নিজের ভাষায় বুঝেন। কোরানের তত্ত্ব, শাস্ত্র, কখন, কেন বলেছেন? এবং কোরানে জিন, নাছ, ইনসান, আমানু, মুমিন কাহাকে কি উপদেশ দিয়েছেন? কাকে ভয় দেখান? কাকে জ্ঞান দান করেন তাহার সকল কিছুর রহস্য জ্ঞাত থাকতে হয়। সকল রহস্য জ্ঞান মানুষকে জানানোর জন্য আল্লাহ পাক পবিত্র কেরান দর্শন দান করেছেন। পবিত্র কেরানে মানুষকে আত্মসমর্পণ করানোর জন্য, অশ্রয় নিতে বলেছেন। আল্লাহ সরাসরি হুকুম করে বলেছেন- আশ্রয় নিতে হবে। তবের আশ্রয় প্রাপ্ত হয়ে খান্নাসের আশ্রয় হইতে মুক্তি দিতে বলেছেন।
ষড়রিপুর কুভাব, কুমন্ত্রণা এবং মন্দ কর্ম ত্যাগ করে সালাত সাধনা প্রতিষ্ঠিত। করার জন্যই আল কোরান। সালাতের মূল তত্ত্ব হলো: আশ্রিত রবের সহিত স্মরণ সংযোগ কর্মে নত থাকা। এই সকল কর্ম ও সত্য সুপথ বুঝার জন্য আল কোরান মাতৃভাষায় বুঝতে হয়। আল্লাহর নিকট প্রার্থনার কথা বিনয় ভাষায় বলা, মাওলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনার জন্য দাসের ভাব ক্লান্তি রক্ষা করা, আল্লাহর গুনকীর্তন করতে হৃদয়ে মাধুর্য্য ভাব, মর্জিত কথা আর প্রেমের ক্ষেত্রে হলাদানী রূপ বা পাগলের মত আল্লাহর দেওয়ানা হওয়া অবশ্যায়ক। কঠিন ও রুঠা (বসশূন্য) ভাষায় যেন তাকে না ডাকি।
সকল সমস্যা সমাধানের জন্য দরকার আল্লাহর দেওয়া কোরান সুন্দর ও সুস্পষ্টভাবে বুঝা। সকল কর্ম জেনে শুনে করা। আমাদের মাঝে অনেকেই কোরান বুঝেন না। তন্মধ্যে ছোট ছোট সূরাগুলো সকলেই মুখস্থ জানা থাকে বলেই ছোট সূরাগুলো হইতে ১৬টি সূরা এই কিতাবে নেওয়া হয়েছে। সকলের বোধগম্যতার জন্য সূরাগুলোর বাংলা উচ্চারণ, শব্দার্থ, অনুবাদ আর আত্মদর্শন লাভে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে
প্রিয় পাঠক-পাঠিকা, বন্ধুগণ ভুল হওয়া স্বাভাবিক। লিখকের এই ক্ষুদ্র দাসত্বটুকু ভাবগাম্ভীর্য সহানুভূতির সহিত নেওয়া আপনার মহত্বহৃদয়ে অনুধাবন কাম্য।
