বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
পরম করুনাময় আল্লাহ তাআলার অসীম দয়া ও রহমতে আমরা সবাই বেঁচে আছি এজন্য তার কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া আদায় করি, আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ যুগে যুগে তার নবী রাসুলগণ প্রেরন করেছেন মানুষকে সঠিক পথ দেখানোর জন্য এবং সেই অনুয়ায়ী জীবন যাপন করার জন্য। আল্লাহর আদেশ পালন করা এবং নিষেধ গুলো থেকে বিরত থেকে তথানুযায়ী জীবন যাপন করা মানুষের একমাত্র উদ্দেশ্য।
এই সুন্দরময় পৃথিবীতে আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করার আগে, হারিছ মারিছ জান সহ বহু ধরনের জাতিকে তিনি সৃষ্টি করেছিলেন তার নামের বহিঃপ্রকাশ করার জন্য। কিন্তু তাদের মাঝে কলহ ও বিবাদ, স্রষ্টার আনুগত্য ও দাসত্ব না থাকায় আবার তিনি তাদেরকে ধ্বংস করে ফেলেন। মহান আল্লাহ তায়ালা ১৮হাজার মাখলুকাতের মধ্যে মানুষকে শ্রেষ্টত্ব দান করেছেন এবং সৃষ্টির সেরা জীব হিসাবে ঘোষণা করেছেন। আর বাকি সৃষ্টিগুলো মানুষের কল্যাণের জন্যই তিনি সৃষ্টি করেছেন। এই সুন্দর পৃথিবীতে মানুষের চরাচরে প্রায় দুই ধরনের বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। ভোগী এবং ত্যাগী। যাহারা ভোগী তারা মহান আল্লাহর দেওয়া অসংখ্য নিয়ামত গ্রহন করে সুখ স্বাচ্ছন্দে জীবনটাকে অতিবাহিত করে আবার পৃথিবীর মাঝে বিলীন হয়ে যায়। তাদের জীবনে সুনির্দিষ্ট্য কোন কর্ম বা কৃতিত্ব পৃথিবীতে না থাকায় পৃথিবীর এই দৃশ্যপট থেকে তাদের নাম চিরতরে বিলীন হয়ে যায়। অপর দিকে আল্লাহ তালা তার যে বান্দাকে প্রিয় হিসাবে নির্বাচিত করেন তাকে মহাপুরুষ হিসাবে পৃথিবীতে প্রেরন করেন মানুষের কল্যান ও মঙ্গলের জন্য। মহা সৃষ্টিধর রাববুল আলামিন অজ্ঞ ও পথভ্রষ্ট লোকদেরকে অসত্য, অন্যায় পথ থেকে সরিয়ে ন্যায় ও সত্যের পথে ধাবিত করা এবং মহান সৃষ্টিকর্তার আনুগত্য ও ইবাদত করার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রায় এক লক্ষ চব্বিশ হাজার মতান্তরে দুই লক্ষ চব্বিশ হাজার পয়গম্বরকে শান্তির বার্তা দিয়ে ধরনীতে পাঠিয়েছেন। তার ধারাবাহিকতায় বেলায়েতের জামানায় অসংখ্য ওলী আউলিয়া পীর মাশায়েখ সাধু গুরু মহা মনিষীদেরকে পাঠিয়েছেন। প্রত্যেকটা মানুষের উচিত যেন সেই মহামনিষীদের সঙ্গ করে নিজের জীবনের সমস্ত কুলোসিত কালিমাগুলো ধুয়ে মুছে নিজেকে পরিশুদ্ধ করা। সঙ্গগুনে রঙ্গ, তাই আমরা যেন সবাই নিজেদের মা বাবা, পীর মুর্শেদ ও মহামুনিষিদের সঙ্গ লাভ করে নিজেদের জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে পারি। (আমিন)
