শিক্ষা জীবন : বাবা ছেলেকে ভর্তি করিয়েছিলেন আজিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের পর তিনি ভর্তি হন সিংগাইর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে। কিন্তু নির্দিষ্ট গণ্ডি ও ধারাবাহিক নিয়মনীতি তাকে বেশিদিন আটকে রাখতে পারেনি। ৮ম শ্রেণিতে পড়ার সময় তাঁর শিক্ষাজীবনের অবসান ঘটে। স্কুল ছেড়ে দেওয়ার পর পিতা আইনউদ্দীন পত্তনদার ছেলেকে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চেয়েছিলেন। তাই তিনি ছেলেকে সোনাহাজরা হাফিজিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দেন। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক এবং রুটিন মাফিক কোনো শিক্ষাই তাঁকে নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আবদ্ধ রাখতে পারেনি। তবে বিভিন্ন ধর্ম ও ধর্মগ্রন্থ সম্পর্কে তাঁর বিস্তর পড়াশোনা ছিল। সুফীবাদ, বাউলবাদ এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় ছিল তার পদার্পণ ।
সংসার জীবন : রশিদ সরকার সংসার জীবনে তিন স্ত্রী, চার সন্তানের পিতা এবং হাজার হাজার রুহানী সন্তানের জনক। শিরীন সরকারের গর্ভে জন্ম নিয়েছে বড় ছেলে বর্তমান গদিনশিন পীর কেবলা শফিউল বাশার আল- চিশতী এবং দুই কন্যা শিল্পী (মৃত) ও তানাকা। বিখ্যাত লোকসংগীত শিল্পী মমতাজ বেগমের ঘরে রয়েছে ছোট ছেলে মেহেদী হাসান।
গায়ক রশিদ সরকার : ছোটবেলা থেকেই তিনি ভাবুক প্রকৃতির ছিলেন। স্কুলে পড়ার সময় নানার হাত ধরে বিভিন্ন জায়গায় গান শুনতে যেতেন। সে সময় ধুয়া, জারি-সারি, ভাটিয়ালী, ভাব-বৈঠকি, মুর্শিদি গানের ছিল ব্যাপক জনপ্রিয়তা। তাঁর নানা ছিলেন বৈঠকি গানের অন্যতম শিল্পী। সেই মাতামহের হাত ধরেই গানের জগতে পথ চলা শুরু। ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ
থানার যন্ত্রাইল গ্রামের বিখ্যাত গায়ক আনোয়ার দেওয়ানের কাছে গানের শিক্ষা গ্রহণ করেন। রশিদ সরকার নিজে গান লিখতেন, সুর করতেন এবং গাইতেন। একাধারে তিনি গীতিকার, সুরকার এবং শিল্পী। উক্ত গুণের জন্য ওস্তাদ আনোয়ার দেওয়ান তাঁকে সরকার উপাধিতে ভূষিত করেন। তাঁর রচিত গানের সংখ্যা ৫ শতাধিক। অডিও এবং ভিডিও মিলে ১৫০টি ক্যাসেট রয়েছে। এসব গানের মধ্যে রয়েছে বিচ্ছেদ, মুর্শিদি, নবীর শান পাক-পাঞ্জাতনের শান, ভাবতত্ত্ব, রসতত্ত্ব, পালাগান ইত্যাদি। দেশে-বিদেশে মঞ্চস্থ হয়েছে তাঁর অসংখ্য একক ও পালাগান ।
রশিদ সরকারের গানের ছাত্র এবং ফকির মওলা দরবারের ভক্ত-শিল্পীদের মধ্যে রয়েছে- ছোট আবুল সরকার (মানিকগঞ্জ) পাগল খালেক (সিংগাইর), আনোয়ার সরকার (মানিকগঞ্জ), রাজ্জাক সরকার (দোহার), আজগর সরকার (মানিকগঞ্জ), জালাল সরকার (মানিকগঞ্জ), জলিল সরকার (মানিকগঞ্জ), অন্ধ বাউল হাসান সরকার (নবীনগর), অন্ধ সালমা সরকার (সিংগাইর), তাহেরা সরকার (নবাবগঞ্জ), ইউসুফ সরকার (সিংগাইর), আমজাদ সরকার (মানিকগঞ্জ), ছাত্তার সরকার (সিংগাইর), জীবন সরকার (সিংগাইর), খালেদা সরকার (সিংগাইর), জিয়াসমিন সরকার (মানিকগঞ্জ), শিরীন দেওয়ান (সিংগাইর), কাসেম বাউল (পাবনা), করীম সরকার (সখীপুর), সাইদুর সরকার (গাজীপুর), জিন্নত সরকার (দোহার), রুবি সরকার (হরিরামপুর), নাসরিন সরকার (ধামরাই), বাতেন সরকার (রাজবাড়ী), সিদ্দীক সরকার (টাঙ্গাইল), হাবিব সরকার (টাঙ্গাইল), মিঠু সরকার (গাজীপুর), জেসমীন সরকার (গাজীপুর), লিটন সরকার (পটুয়াখালি), জুলিয়া সরকার (মানিকগঞ্জ), দোলন সরকার (সিংগাইর), জালালী রফিক সরকার (মানিকগঞ্জ), গোলাম সরকার (ভারত), মল্লিকা সরকার (ভারত), মৌ সরকার (হরিরামপুর), বুলবুল সরকার (পাংশা), উসমান সরকার (মানিকগঞ্জ), বয়াতি রহমান সরকার (রাজশাহী), লাবলু সরকার (মানিকগঞ্জ), মায়া সরকার (দোহার), তোফাজ্জল সরকার (ফরিদপুর), আনোয়ার সরকার (সিংগাইর), কেয়া সরকার (ফরিদপুর) সোনিয়া সরকার (ফরিদপুর), শাহ্নাজ সরকার (টাঙ্গাইল), স্বপ্না সরকার, সুরুজ সরকার (সিংগাইর), আবুল আজিমপুরী (সিংগাইর), সবুজ সরকার (নাগরপুর), শাহনাজ সরকার (ঢাকা) প্রমুখ।
সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবন : শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, সামাজিক, রাজনৈতিক ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর ছিল বিশেষ অবদান। সাম্যবাদ, ৮ মানুষে আল্লাহ থাকে